সেচ সুবিধার কারণে ৩ জেলায় বার্ষিক ফসল উৎপাদন বেড়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

Jun 25, 2024 - 13:51
 0  2
সেচ সুবিধার কারণে ৩ জেলায় বার্ষিক ফসল উৎপাদন বেড়েছে ৪০০ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৭ হাজার হেক্টর জলাবদ্ধ জমি সেচের আওতায় এনে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে কৃষি বিভাগ। সেচ সুবিধার কারণে এই তিন জেলায় বার্ষিক ফসল উৎপাদন এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার টনে, যার মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। উপকৃত হয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৯০ জন কৃষক। কৃষিতে এমন সফল উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে পতিত জমিতে সোনার হাসি ফিরবে, খাদ্য উৎপাদনে দেশ গড়বে নতুন রেকর্ড।

আজ কুমিল্লার সেচ ভবনে 'আধুনিক সেচ সুবিধা সম্প্রসারণে কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব, ফলাফল ও ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড' শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্প এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএডিসি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ সাজ্জাদ।

মূল প্রবন্ধে কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেচ এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এবং বিএডিসির কুমিল্লা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিএডিসি কুমিল্লা-চাঁদপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেচ উন্নয়ন প্রকল্প 2019 সালে শুরু হয়েছিল। এই প্রকল্পটি চলতি বছরেই শেষ হচ্ছে। ৩৪টি উপজেলায় ৩৬৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে। প্রকল্পের শুরুতে তিন জেলার আবাদি জমির ২২ শতাংশ সেচের বাইরে ছিল। আধুনিক সেচ, ড্রেনেজ এবং নিষ্কাশন সুবিধার অভাব প্রকল্প এলাকায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত করবে। এখন এসব সমস্যা সমাধানের ফলে ২৭ হাজার ২২৭ হেক্টর জমিতে বার্ষিক ফসল উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৩৫ টন, যার আনুমানিক মূল্য ৪০৫ কোটি টাকা।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আরও বলেন, ২০ বছর ধরে জলাবদ্ধ পতিত জমি এখন তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এখনও তিন জেলার ৭২ হাজার ৭১৯ হেক্টর জমি সেচের বাইরে, যা মোট চাষযোগ্য জমির ১৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। ফলে এলাকাভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে সেচ এলাকা সম্প্রসারণের জন্য টেকসই প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে।

বিএডিসির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ সাজ্জাদ বলেন, এ প্রকল্প সারা দেশের জন্য অনুকরণীয়। কারণ দেশে নদীর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। খালটি পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। খাল খননের ফলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা দূর হবে, অন্যদিকে খালের পানি শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহার করা যাবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী (অল্প সেচ) শিবেন্দ্র নারায়ণ গোপ, বিএডিসির সদস্য পরিচালক (অল্প সেচ) মোঃ মুজিবুর রহমান, সদস্য পরিচালক (এসএআর) মোঃ আশরাফুজ্জামান, সদস্য পরিচালক (অর্থ) মো. ওসমান ভূঁইয়া, সদস্য পরিচালক (বীজ ও উদ্যানপালন) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) কুমিল্লা উপকেন্দ্রের প্রধান ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow