উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ গণহত্যার শামিল: যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ১৭ই অক্টোবর ২০২০ ০৭:১২:০১ | আপডেট: ১৭ই অক্টোবর ২০২০ ০৭:১২:০১ 0
উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণ গণহত্যার শামিল: যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও'ব্রায়েন বলেছেন, চীন সরকার দেশটির জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করছে তা গণহত্যার কাছাকাছি অপরাধ। 

শুক্রবার অ্যাস্পেন ইনস্টিটিউট আয়োজিত একটি অনলাইন ইভেন্টে ব্রায়েন এ অভিযোগ করেন। 

তিনি বলেন, গণহত্যা না হলেও জিনজিয়াংয়ে এর কাছাকাছি কিছু ঘটছে।

যুক্তরাষ্ট্র জিনজিয়াংয়ে উইঘুর এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর চীন সরকারের নির্যাতনের নিন্দা জানিয়েছে এবং দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। 

 

যদিও আন্তর্জাতিকভাবে এখন পর্যন্ত উইঘুরদের ওপর বেইজিংয়ের নির্যাতনকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, চীনে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপের প্রয়োজন। 

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, জিনজিয়াংয়ে প্রায় ১০ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে চীন সরকার।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, প্রদেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং গণহত্যার মত অপরাধ সেখানে সংঘটিত হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, ‘শিক্ষা শিবির’ নামক ক্যাম্পে উইঘুরদের আটকে রেখে তাদের চীনা ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হচ্ছে। কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসার কথা বলা এবং তাদের সঠিক আচরণ পরিচালনার নিয়মগুলো কঠোরভাবে মনে রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনা করতে অথবা সেই ধর্ম পরিত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ অভ্যাসগুলোর অংশ হিসেবে চীন সরকার সাংঘর্ষিকভাবে জিনজিয়াংয়ের উইঘুর সংস্কৃতি ও জাতিগত সত্তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

 

তবে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সংখ্যালঘুদের ক্যাম্পে রেখে ‘বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রায়েন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস কর্মকর্তারা মানুষের চুল দিয়ে তৈরি পণ্য আটক করেছে, যা চীনের জিনজিয়াং থেকে এসেছিল।

তিনি বলেন, চীন মূলত উইঘুর নারীদের মাথা কামিয়ে দিচ্ছে এবং তাদের চুল ‍দিয়ে পণ্য তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছে।

জুনে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তারা জিনজিয়াং থেকে রপ্তানি করা চুল দিয়ে তৈরি পণ্য জব্দ করেছেন। সেসময় তারা জানিয়েছিলেন এগুলো মানুষের চুল দিয়ে তৈরি পণ্য এবং জোর করে জিনজিয়াংয়ের মানুষের দিয়ে এগুলো তৈরি করানো হচ্ছে।

এদিকে, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও অভিযোগ করেছেন যে, চীন জিনজিয়াংয়ের মুসলিম নারীদের জোর করে গর্ভপাত করানো হচ্ছে ও জরবদস্তি করে পরিবার পরিকল্পনায় বাধ্য করা হচ্ছে।

 

 

লগইন করুন


পাঠকের মন্তব্য ( 0 )