দেশে করোনায় দ্বিতীয় মৃত্যু আক্রান্ত বেড়ে ২৪ জন

প্রকাশিত: ২২শে মার্চ ২০২০ ০৭:৫৫:২১ | আপডেট: ২২শে মার্চ ২০২০ ০৭:৫৫:২১ 3
দেশে করোনায় দ্বিতীয় মৃত্যু আক্রান্ত বেড়ে ২৪ জন

বাংলাদেশে কভিড-১৯ আক্রান্ত আরও একজন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন আরও চারজন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, সত্তরোর্ধ্ব এই ব্যক্তি বিদেশফেরত স্বজনের মাধ্যমে নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এনিয়ে নভেল করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দুজনে দাঁড়াল। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৪। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইর্য়কে ২ এবং ইতালির মিলানে একজন বাংলাদেশির মৃতু্য হয়েছে। বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজন এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। তার ১০ দিন পর ১৮ মার্চ সত্তরোর্ধ্ব এক ব্যক্তির মৃতু্যর খবর নিশ্চিত করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মেয়ের মাধ্যমে তার দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল। সেটাই ছিল বাংলাদেশে প্রথম মৃতু্য। এরপর কয়েক দফায় শুক্রবার নাগাদ দেশে মোট ২০ জন কভিড-১৯ রোগী ধরা পড়ে। তারা কেউ বিদেশফেরত, কেউ তাদের স্বজন। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কভিড-১৯ মোকাবেলায় গঠিত জাতীয় কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে নতুন মৃতু্যর খবর জানান, এক্ষেত্রেও বিদেশফেরতের মাধ্যমেই ঘটেছে সংক্রমণ। তিনি বলেন, 'ওই লোকের বয়স সত্তরের বেশি। বিদেশে থাকে এমন স্বজনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন।' ভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বাকি ১৯ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে শনাক্ত রোগীদের সংস্পর্শে এসেছেন, এমন সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। বিদেশফেরত সবাইকে হোমে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে ৫০ জন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন। আর বিদেশফেরতদের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ২৬৪ জন হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। তিনি বলেন, মার্চের ১ তারিখের পর বিদেশফেরতদের তথ্য বিমানবন্দর থেকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হয়েছে। যারা পালিয়ে আছেন তাদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, 'সে তালিকা সারা বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, আমাদের কাছে তথ্য দেন নেই, আত্মগোপন করেছেন, তাদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টিনে নিতে হবে।' দেড় শতাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়া কভিড-১৯ রোগকে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এতে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে আড়াই লাখ। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে জনসমাগমের মতো সব অনুষ্ঠান আয়োজনে মানা করা হয়েছে। বন্ধ করা হয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিনোদনকেন্দ্র, প্রেক্ষাগৃহ। করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে বা সন্দেহ হলে যোগাযোগের জন্য হটলাইন (৩৩৩, ১৬২৬৩) চালু করেছে আইইডিসিআর। তাতে ফোন করলে বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবেন আইইডিসিআরের কর্মীরা। নিউইয়র্কে ২ বাংলাদেশির মৃতু্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে দুই বাংলাদেশির মৃতু্য হয়েছে। তারা দুজনই কুইন্সের বাসিন্দা ছিলেন। এস্টোরিয়া এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব একজন গত বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান। হার্টের সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর কুইন্সের একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল। অন্যজন কুইন্সের উডসাইডের বাসিন্দা ছিলেন। পেশায় গ্রিন ক্যাবের চালক ছিলেন। তার বয়স ৫০ বছর। এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা খান শওকত তার মৃতু্যর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। করোনাভাইরাস এখন নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক বাংলাদেশির এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর লোকমুখে শোনা গেলেও ঠিক কতজন বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন, সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের পরিবার বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে চাইছে। আশপাশের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে কোনো কোনো ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার খবর জানা যাচ্ছে। ইতালিতে এক বাংলাদেশির মৃতু্য : ইতালির মিলানে শুক্রবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক বাংলাদেশি। পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তার বয়স ৫০ হলেও ঘনিষ্ঠজনেরা জানান, প্রায় ৬০ বছর বয়সি ছিলেন ওই ব্যক্তি। ওই ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ একজন জানান, এ মাসের প্রথম দিকে জ্বর হলে সাধারণ ফ্লু মনে করে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু তেমন উন্নতি হয়নি। বরং ১১ মার্চ দুপুরে শরীরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে বাসার মেঝেতে পড়ে যান। এ সময় তার বাসায় থাকা আরেক বাংলাদেশি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মিলান নিগুয়ারদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে পরীক্ষায় তার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর নবম দিনে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা বিফল করে চলে যান না-ফেরার দেশে। একই দিন মৃত ব্যক্তির স্ত্রীর সংক্রমণ হয়েছেন কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। সেদিন তার স্ত্রীর শরীরে করোনাভাইরাস নেগেটিভ বলা হলেও গত বুধবার হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানানো হয়, তিনিও সংক্রমিত হয়েছেন। তবে এখনই হাসপাতালে না এসে বাসায় কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়। একই সঙ্গে পরামর্শ দেওয়া হয়, শরীরে তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৫ সেন্টিগ্রেড বা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলেই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে আসতে। এদিকে ১১ মার্চ ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া অপর বাংলাদেশিও সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে তার অবস্থা স্থিতিশীল। মৃত ওই ব্যক্তি ছেলে, স্ত্রী, এক মেয়ে এবং মেয়ের স্বামীসহ এক বাসায় থাকতেন। স্ত্রী এবং ছেলে গত বছর মিলান এসেছেন। বাংলাদেশে আরও ৩ মেয়ে আছে তার। শোকাবহ ঘটনার পর পরিবারের দুশ্চিন্তা এখন মরহুমের জানাজা-দাফন নিয়ে। এ ব্যাপারে মিলান কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব মাওলানা জুনাইদ সুবহান বলেন, 'রোববারের মধ্যে যদি দাফনের যায়গা জোগাড় করতে না পারি, তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবস্থাপনায় মৃতদেহের ব্যবস্থা করবে। কারণ মর্গে রাখার মতো জায়গা নেই।'

লগইন করুন


পাঠকের মন্তব্য ( 0 )