ফাঁকা ঢাকাও ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ

প্রকাশিত: ২৯শে মার্চ ২০২০ ০৫:০০:৪৬ | আপডেট: ২৯শে মার্চ ২০২০ ০৫:০০:৪৬ 20
ফাঁকা ঢাকাও ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ

সরকারের সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গেছেন এক কোটির বেশি মানুষ। নগরীর রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য। তবে ফাঁকা হলেও এখনও ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। গাবতলীসহ যেসব এলাকা থেকে পণ্যবাহী যান চলাচল করছে, সেখানে এখনও রয়েছে মানুষের ভিড়। তাদের প্রায় সবাই ঢাকা ছাড়ার যাত্রী। ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে ঢাকা থেকে পাশের জেলায়  যাচ্ছেন তারা।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রুখতে ২৬ মার্চ থেকে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধ রাখা হয়েছে সব গণপরিবহন। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে ট্রেন ও লঞ্চ। ছুটি শুরুর আগে কোটি মানুষ ঈদের সময়ের মতো ভিড় করে ঢাকা ছেড়েছেন। মোবাইল ফোন অপারেটরদের হিসাবে এক কোটি ১০ লাখ গ্রাহক ঢাকা ছেড়ে গেছেন।

গতকাল সরেজমিন দেখা গেছে, এখন যারা ঢাকা ছাড়ছেন তাদের অধিকাংশই গার্মেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী। গার্মেন্টে ছুটি ঘোষণা করা হয় গত ২৬ মার্চ রাতে। তবে এরই মধ্যে পরিবহন বন্ধ হওয়ায় অনেকে আটকা পড়েন। গতকাল দুই গার্মেন্ট কর্মকর্তা ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যান ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও লেগুনায় করে।

এ দু'জন জানান, তারা ঢাকায় মেসে থাকেন। করোনার কারণে দেওয়া ছুটিতে সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাবার সংকটে পড়েছেন। গতকাল তারা একটি গাড়িতে করে গাজীপুরের মাওনা পর্যন্ত যান। সেখান থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় যান জৈনা বাজার পর্যন্ত। সেখান থেকে কিছুটা হেঁটে রিকশায় যান সিডস্টোর পর্যন্ত। এরপর লেগুনায় যান ভালুকায়। সেখান থেকে ইজিবাইকে ত্রিশাল। তারপর অটোরিকশায় ময়মনসিংহ। মাওনা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরের ময়মনসিংহ গিয়েছেন এভাবে ভেঙে ভেঙে। ট্রাকেও প্রচুর মানুষ যাচ্ছে। 'সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে' তারা অটোরিকশা, লেগুনা, রিকশায় করে ময়মনসিংহে গেছেন।

গতকাল দুপুরে গাবতলীতে দেখা যায়, সাভারের দিকে যেসব ট্রাক, পিকআপ যাচ্ছে, তাতে চড়ে লোকজন ঢাকা ছাড়ছেন। অধিকাংশ নিম্নআয়ের মানুষ। তারা জানলেন, ঢাকায় কাজ নেই, রোজগার নেই, তাই চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণায় জানানো হয়েছিল, জরুরি পণ্যবাহী যান চলাচল করতে পারবে সাধারণ ছুটিতে। তবে পণ্যবাহী যানে কিছুতেই যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। কিন্তু গাবতলী ঘুরে দেখা গেল, যেসব ট্রাক ঢাকা ছাড়ছে তার প্রতিটিতে যাত্রী রয়েছে। করোনার বিস্তার ঠেকাতে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হলেও ট্রাকে গাদাগাদি করে মানুষ গ্রামে যাচ্ছে।

অবশ্য বিআরটিএর উপপরিচালক মাসুদ আলম বলেছেন, কোনো ট্রাকে, পিকআপে যাত্রী পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাবতলীতে কথা হয় সিরাজগঞ্জের আবুশ হাশেম নামে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের সঙ্গে। তিনি ঢাকায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রিবাট্টা নেই বলে জানালেন। তার ভাষ্য, ১৮ টাকা কেজি দরে বেগুন কিনেছেন আড়ত থেকে। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। লোকসান দিয়ে টেকা সম্ভব নয়। তাই চলে যাচ্ছেন। ৩০০ টাকা ভাড়ায় সিরাজগঞ্জ যাচ্ছেন ট্রাকে।

ট্রাকে বসা আরেক যাত্রী রফিক মিয়া ব্যবসা করেন। চালকের সঙ্গে ৫০০ টাকা চুক্তিতে তিনি নাটোর যাচ্ছেন। গার্মেন্ট ছুটির পর ঢাকায় তার কাজকর্ম নেই, তাই বাড়ি চলে যাচ্ছেন। ট্রাকটিতে কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন ওই সময়।

ট্রাকের চালক নোমান মিয়া জানালেন, নাটোর থেকে মাছের পোনা এনেছিলেন ঢাকায়। ফেরার পথে যাত্রী যা পাচ্ছেন, নিয়ে নিচ্ছেন। ভাড়া নিচ্ছেন দূরত্ব বুঝে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা।

লগইন করুন


পাঠকের মন্তব্য ( 0 )