বিপাকে দরিদ্ররা, মধ্যবিত্তও চাপে

প্রকাশিত: ১৪ই অক্টোবর ২০২০ ০৭:০৩:০৩ | আপডেট: ১৪ই অক্টোবর ২০২০ ০৭:০৩:০৩ 18
বিপাকে দরিদ্ররা, মধ্যবিত্তও চাপে

মোটা চালের দাম যেন সুতাছেঁড়া ঘুড়িতে পরিণত হয়েছে। কত উঁচুতে উঠবে, কোথায় গিয়ে নামবে, তা কেউ ধারণা করতে পারছে না। শুধু মোটা নয়, সরু ও মাঝারি চালের দাম এখন মগডালে।

দরিদ্র মানুষের নিত্যদিনের বাজারের তালিকায় থাকে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ ও আলু। এখন ডাল ছাড়া বাকি সব কটির দামই বাড়তি। শুধু বাড়তি বললে ভুল হবে, দাম অস্বাভাবিক উচ্চতায় উঠে গেছে।

যেমন মোটা চালের দাম এখন তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। দুই মাসে অনেকটা লাফিয়ে বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। পেঁয়াজ শতক হাঁকিয়েছে। আলুর দাম এত বেশি কখনো ছিল কি না, তা মনে করতে পারছেন না পুরোনো ব্যবসায়ীরা। বিপরীতে করোনাকালে মানুষের আয় কমেছে ২০ শতাংশ। নতুন করে দেড় কোটির মতো মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে।

দরিদ্র মানুষের দৈনিক আয়ের বড় অংশ খরচ হয় চাল কিনতে। সরু ও মাঝারি চালের মূল ভোক্তা মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্তরা। সবাই চাপে রয়েছেন।

অবশ্য কৃষি মন্ত্রণালয় এখনো মনে করছে, চালের দাম নিয়ন্ত্রণেই আছে। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, মূলত মোটা চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। অন্য চালের দাম ঠিক আছে। করোনা ও বন্যার কারণে দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণসহায়তা বেশি দেওয়ায় মোটা চালের দাম বাড়তি উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। দাম আরও বাড়লে আমদানি করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হবে।

কৌশলে কাজ হয়নি

বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মন্ত্রণালয় গত ২৯ সেপ্টেম্বর মিলমালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সরু মিনিকেট চাল মিলগেটে সাড়ে ৫১ টাকা ও মাঝারি চাল ৪৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। তখন কুষ্টিয়ার মোকামে সরু মিনিকেট চাল ৫৩ টাকা ও মাঝারি চাল ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা ছিল। মোটা চালের দাম নির্ধারণ করা হয়নি। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, মিল থেকে মোটা চালের সরবরাহ নেই।

দাম নির্ধারণের প্রভাব বাজারে পড়েনি। উল্টো বেড়ে গেছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক সপ্তাহে সরু চালের দাম কেজিতে এক টাকা বেড়েছে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার খুচরায় প্রতি কেজি মোটা চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, মাঝারি চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা এবং সরু মিনিকেট চাল ৫৮ থেকে ৬২ টাকায় বিক্রি হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১৭ সালের এই সময়ে মোটা চাল ৫০ টাকা কেজিতে উঠেছিল। ওই বছর হাওরে ফসল নষ্ট হয়েছিল।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) হিসাবে, ঢাকায় গত সোমবার তিন ধরনের মোটা চালের দাম ৫১ থেকে ৫৫ টাকা ছিল। ক্যাব বলছে, ২০০০ সালে একই চাল প্রতি কেজি ১৫ থেকে ১৭ টাকা ছিল।

বেসরকারি চাকরিজীবী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘৫০ কেজির এক বস্তা চাল কিনতে এখন তিন হাজার টাকা লাগে। সবজি না হয় বন্যায় নষ্ট হয়েছে, চালের বাজারে কী?

 

লগইন করুন


পাঠকের মন্তব্য ( 0 )