শব্দ শেখার কার্যকর পদ্ধতি ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’

প্রকাশিত: ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০২:৫১:৪৯ | আপডেট: ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ ০২:৫১:৪৯ 6
শব্দ শেখার কার্যকর পদ্ধতি ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’

শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধিকরণ শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি একটি জটিল কাজ। বার বার অনুশীলনের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার প্রাথমিক স্তরে ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’ নামে যে স্কিমটি বাধ্যতামূলকভাবে চালু করা হয়েছে তা যুগোপযোগী এবং বাস্তবসম্মত।

এর কারণ, শিশুরা তার শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের পঠন উপযোগী শব্দসমূহের উচ্চারণ শিখবে। অর্থ জানবে। অর্থ্যাৎ অনুধাবন করবে এবং এভাবে প্রতিটি শ্রেণির শিশুর পরিবর্তী শ্রেণিতে পূর্বের শ্রেণিতে শেখা শব্দগুলোর সফল প্রয়োগ করতে পারবে। এর মাধ্যমে নিজেদের সমৃদ্ধ করবে। সর্বোপরি, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাষার বই, পত্রিকা, জার্নালপড়তে ও জানতে পারবে। এভাবেই এরা নিজেদেরকে বিশ্বায়নের সাথে খাপ খাইয়ে নেবে।

‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’ বা ‘দিনে একটি শব্দ’ পদ্ধতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল হোসেনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিটি শিশু প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে বাংলা ও ইংরেজি শব্দ শিখবে। ‘দিনে একটি শব্দ’-এ শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উভয়ই রেজিস্টার অনুসরণ করে। এছাড়াও কোনো কোনো স্কুলে বাকসেও শব্দ সংরক্ষণ করা হয়। প্রত্যেক মাসের ২৫-৩০ তারিখের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে এর একটি টপ শিট পাঠানো হয়, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীর হার, মাসের কর্মদিবস, শেখানো শব্দসংখ্যার হিসাব থাকে এবং এর উপর পর্যবেক্ষণও করা হয়।

একদম প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই ধারণাটি একটু জটিল মনে হলেও সংশ্লিষ্টদের তদারকি, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, প্রধান শিক্ষকের সজাগ দৃষ্টি ইত্যাদির কারণে এটি এখন একটি ভাল পর্যায়ে চলে এসেছে। তারপরও অনেকগুলি কারণ এটি সফল করার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে।

আমি নিজে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে গিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে কয়েকদিন আগেই শেখানো শব্দের অর্থ জানতে চাইলে তারা বলতে পারছে না। তাদের মধ্যে শ্রেণিতে একিভ‚ত শিক্ষার কারণে সকল শিক্ষার্থীই সমানভাবে শিখতে পারছে না। শিক্ষকদের অনিয়মিত, শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি, অভিভাবকদের অসচেতনতা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মনোভাব না থাকা, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকের অবহেলা, শিক্ষার্থীদের দারিদ্রের কারণে শিক্ষার পরিবেশ না থাকা, আনন্দদায়কভাবে না শিখাতে পারা, বিষয়জ্ঞান্সম্পন্ন দক্ষ শিক্ষকের অভাব, অনেক ক্ষেত্রে এক শিফটের ব্যবস্থা না থাকা, যোগ্য শিক্ষকের কাজের স্বীকৃতি না দেওয়া, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্য অদক্ষ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য কারণ।

এসকল প্রতিবন্ধকতা উতঁরাতে তিনটি জায়গায় গুরুত্ব দিলে ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’ ইতিবাচকভাবে এবং কার্যকরভাবে সফল করা সম্ভব। তাদেরকে নতুন শব্দের অর্থ শেখানোর সাথে আগে শেখানো শব্দগুগুলোর উপর পুনরায় শিক্ষার্থীদেরকে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে। আবার বাড়িতেও যাতে অভিভাবকরা স্কুলে শেখানো শব্দগুলো শিক্ষার্থীদেরকে পড়ায়, সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে হবে। তাহলে শিশুদের আয়ত্বে আসবে ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’ পদ্ধতি। এটাকে কার্যকর করতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা দরকার। বিষয়জ্ঞান সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া এবং এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আন্তরিকতার সাথে পাঠ দেওয়া, আনন্দঘন পরিবেশে পাঠদানের মাধ্যমে শব্দ শেখাতে হবে শিক্ষার্থীদের। তাহলে তাদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি হবে। এবং সকল বিদ্যালয়কে এক শিফটের আওতায় পরিচালিত করা যাবে। কারণ এতে করে শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন শব্দ শিখতে যথেষ্ট সময় পাবে।

মূল কথা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের শব্দভাণ্ডার তৈরিতে ‘ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড’ স্কিমটির প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখতে পারে। এর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি খুবই দরকার। 

মো. লিয়াকত আলী সেখ : উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শেরপুর, বগুড়া

লগইন করুন


পাঠকের মন্তব্য ( 0 )