১৫৭ দিনেও পণ্য মেলেনি, ইভ্যালির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অবস্থান

প্রকাশিত: ১১ই আগস্ট ২০২১ ০২:২৯:০০
১৫৭ দিনেও পণ্য মেলেনি, ইভ্যালির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের অবস্থান

অর্ডার করার ১৫৭ দিন পরও বাইক না পাওয়ায় ইভ্যালির অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটির গ্রাহকদের একটি অংশ।

 

বাইক ডেলিভারি পাওয়ার দাবিতে সোমবার (০৯ আগস্ট) বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির সোবাহানবাগের ডেলিভারি পয়েন্ট ভবনের সামনে জড়ো হন প্রায় ৪০ জন গ্রাহক।

 

এসময় তাদের হাতে থাকা একটি ব্যানারে লেখা থাকতে দেখা যায়, “আমরা আমাদের বাইক চাই। ১৫৭ তম দিনেও আমরা আমাদের বাইক পাইনি।”

 

চলতি বছরের মার্চে ইভ্যালির সাইক্লোন অফারে বাইকের জন্য টাকা পরিশোধ করা এই গ্রাহকদের একজন মহিউদ্দিন চৌধুরী শুভ।

 

ঘটনাস্থল থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ইভ্যালির সিইওর জন্য বিকেল ৪টা থেকে অপেক্ষা করছি। তবে তার দেখা না পাওয়ায় রাত ৯টা থেকে এখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি।”

 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল যাচ্ছে।

 

ক্রেতাদের মোবাইলে কল, চেক ছেঁড়ার ভিডিও পাঠাতে বলছে ইভ্যালির কর্তারা

 

নজর২৪ ডেস্ক- অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘসময়েও যেসব গ্রাহককে পণ্য না দিয়ে রিফান্ড চেক দিয়েছিল ইভ্যালি, তাদের অনেকের মোবাইল ফোনে কল করে চেকগুলো ছিঁড়ে ফেলে ছেঁড়ার ভিডিও পাঠাতে বলছেন কোম্পানিটির কর্মকর্তারা। যারা চেক ছিঁড়ে ভিডিও পাঠাবে, তাদের ব্যাংক একাউন্টে রিফান্ডের টাকা ডিপোজিট করা হবে বলে জানাচ্ছে ইভ্যালি। খবর- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের

 

যেসব কাস্টমারকে ইভ্যালি রিফান্ড চেক দিয়েছে, তাদের চেকগুলো ক্যাশ করা যাচ্ছে না। টেলিগ্রাম, হোয়াটঅ্যাপ ও ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় গ্রাহকদের একাধিক গ্রুপ রয়েছে। ইভ্যালির কর্মকর্তাদের চেক ছেঁড়ার প্রস্তাব দেওয়ার মোবাইল কথোপকথনের রেকর্ড অনেক ক্রেতা এসব গ্রুপে শেয়ার করছেন। ক্রেতাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলও সংযুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

গ্রুপগুলোতে ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেছেন, গত জানুয়ারি থেকে সাইক্লোন অফারে বাইক অর্ডার করে এখন পর্যন্ত ডেলিভারি না পাওয়া গ্রাহকদেরকে অগ্রিম তারিখ উল্লেখ করে দ্য সিটি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের রিফান্ড চেক দিয়েছিল ইভ্যালি। নির্ধারিত তারিখে ক্রেতারা যেন চেকগুলো ব্যাংকে জমা না দেন; সেজন্য গতমাসে ফোন করে তাদেরকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তারপরও যেসব কাস্টমার চেক জমা দিয়েছে, তাদের বড় অংশই বাউন্স ও স্টপ পেমেন্ট হয়েছে বলে অনেক ক্রেতা অভিযোগ করছেন ।

 

ব্যাংকাররা জানান, সাধারণত, অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকলে এবং একাউন্ট হোল্ডারের স্বাক্ষরে গড়মিল হলে চেকগুলো বাউন্স বা রিজেক্ট করা হয়। আর কারও নামে একাউন্টহোল্ডার চেক ইস্যু করার পর ওই চেক নম্বর ব্যাংকে পাঠিয়ে যখন পেমেন্ট করতে নিষেধ করা হয়, তখন ওই চেক জমা দিলেও ব্যাংক টাকা দেয় না। এটাকে স্টপ পেমেন্ট বলা হয়।

 

ক্রেতারা জানান, গত সোমবার থেকে ইভ্যালির কর্মকর্তারা কাস্টমারদের মোবাইল ফোনে কল করে তাদের নামে ইস্যু হওয়া চেক ছিঁড়ে- তার স্পষ্ট ভিডিও পাঠাতে বলছে নির্ধারিত কিছু হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে। যারা চেক ছিঁড়ে ভিডিও পাঠাবে, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাওনা টাকা জমা দেওয়া হবে বলে জানাচ্ছেন তারা। যারা চেক ছিঁড়ে ভিডিও পাঠাবে না, তাদের পাওনা নিয়ে জটিলতা হবে বলেও সতর্ক করছেন ইভ্যালির কর্মকর্তারা।

 

ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল কাস্টমারদের চেক ছিঁড়ে ভিডিও পাঠাতে বলার কথা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের কাছে স্বীকার করেছেন।

 

তিনি বলেন, আমাদের মিডল্যান্ড ব্যাংকের একাউন্ট অফ আছে। তাই চেক রিপ্লেস না করে আরটিজিএস (রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট) করছি। যেসব কাস্টমার চেক ছিড়ে ভিডিও পাঠিয়েছে, আমরা তাদের সবাইকে রিফান্ড দিয়েছি। ভবিষ্যতে আগে কাস্টমারদের ব্যাংক একাউন্টে টাকা ডিপোজিট করবো, পরে চেক ছেঁড়ার ভিডিও পাঠাতে বলবো।

 

ইভ্যালির ক্রেতাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে সদস্য সংখ্যা ৫,৭০০ এরও বেশি। সেখানে অনেক ক্রেতা অভিযোগ করে বলছেন, পণ্য ডেলিভারি না করেও ইভ্যালির সফটওয়্যারে তা ডেলিভার্ড দেখানো হচ্ছে। আবার রিফান্ড না দিয়েও রিফান্ডেড দেখাচ্ছে। এ অবস্থায় চেক ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও পাঠানোর পর কিছু গ্রাহককে ইভ্যালি রিফান্ড দিয়ে বাকিদেরও একই কাজে উদ্বুদ্ধ করার কৌশল নিতে পারে। চেক ছেঁড়ার পর রিফান্ড না দিলে ইভ্যালির কাছ থেকে অর্থ আদায় করার মতো আইনি কোন নথি কাস্টমারদের হাতে থাকবে না। তখন রিফান্ড পাওয়া অনিশ্চিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

ক্রেতাদের এ উদ্বেগ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসেল বলেন, তারা যে আমাদের অর্ডার করেছে, সেটাই তাদের পক্ষে ডকুমেন্ট। এর পরে আমরা টাকা দেওয়ার পর চেক ছিঁড়তে বলবো। তাতে আমাদের কাজ কিছুটা বাড়বে। তখন অনেক কাস্টমার হয়তো চেক ছিঁড়তে চাইবে না।

 

কাস্টমারদের রিফান্ড না দেওয়া সত্ত্বেও ইভ্যালির সিস্টেমে তা রিফান্ডেড এবং পণ্য ডেলিভারি না দেওয়ার পরও ডেলিভার্ড দেখানোর অভিযোগ সম্পর্কে ইভ্যালি সিইও বলেন, ব্যাংকে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ডস ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) অনেক সময় একাউন্ট ভুল করে থাকলে বাউন্স হয়। রিফান্ড না হওয়া সত্ত্বেও রিফান্ডেড দেখানোর কোন ঘটনা আমাদের জানালে আমরা সমাধান করে দেই। অনেক সময় অটো সমাধান হয়। “ডেলিভারি স্টেজে কুরিয়ারগুলোর সব ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) সিস্টেম অটোমেটেড না। যার কারণে একটা নির্দিষ্ট সময় পর ডেলিভার্ড মার্ক করা থাকে। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে আমরা তার আপডেট জানাই”- জানান তিনি।

 

এদিকে অনলাইন ভিত্তিক পণ্য কেনা-বেচার প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যত নির্ধারণে ৯ সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষকে করে প্রধান করে গঠিত কমিটি আগামী ১১ আগস্ট বৈঠক করে ইভ্যালির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

 

কমিটির সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান রোববার বলেন, কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রতিযোগিতা কমিশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

গ্রাহকদের কাছ থেকে ইভ্যালি ১৫ জুলাই পর্যন্ত কতো টাকা নিয়েছে, মার্চেন্টদের কতো টাকা পরিশোধ করেছে এবং গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনার পরিমাণ ও তা পরিশোধে ইভ্যালির পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে কোম্পানিটি সেসব তথ্য জানায়নি। কোম্পানিটি এসব তথ্য জানাতে ৬ মাস সময় চেয়েছে।

 

‘ইভ্যালির প্রস্তাব অনুযায়ী তথ্য সরবরাহের জন্য তাদেরকে সময় দেওয়া হবে কি-না, এবং সময় না দিয়ে অন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেসব বিষয় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে কমিটি। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে’- জানান হাফিজুর রহমান।

লগইন করুন


পাঠকের মন্তব্য ( 0 )